| বঙ্গাব্দ

শি জিনপিংয়ের ‘পতনশীল রাষ্ট্র’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ট্রাম্প | ২০২৬ চীন সফর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 15-05-2026 ইং
  • 6306 বার পঠিত
শি জিনপিংয়ের ‘পতনশীল রাষ্ট্র’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ট্রাম্প | ২০২৬ চীন সফর
ছবির ক্যাপশন: শি জিনপিংয়ের ‘পতনশীল রাষ্ট্র’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের ব্যাখ্যা: শি জিনপিংয়ের ‘পতনশীল রাষ্ট্র’ মন্তব্য ও বাইডেন আমলের ব্যর্থতা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বেইজিং সফরের সমাপ্তিলগ্নে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) এক দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পতনশীল রাষ্ট্র’ (Declining Nation) হিসেবে বর্ণনা করার যে প্রসঙ্গটি আলোচনায় এসেছিল, ট্রাম্প সেটির একটি নিজস্ব ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন।

ট্রাম্পের ব্যাখ্যা: লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বাইডেন

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে দাবি করেন, শি জিনপিং যখন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি পতনশীল রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, তখন তিনি মূলত বর্তমান প্রশাসনের সাফল্য নয়, বরং জো বাইডেন প্রশাসনের চার বছরের ‘ব্যর্থতা ও ধ্বংসাত্মক’ নীতিগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন। ট্রাম্পের মতে:

  • বাইডেন আমলের ক্ষতি: গত চার বছরে বাইডেন প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হয়েছে, শি জিনপিংয়ের মূল্যায়ন সে দিক থেকে ১০০ শতাংশ সঠিক ছিল।

  • পুরানো নীতি ও সমালোচনা: ট্রাম্প তাঁর পূর্বসূরির আমলের উন্মুক্ত সীমান্ত নীতি, উচ্চ কর হার এবং সামাজিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নেওয়া ‘দুর্বল’ পদক্ষেপগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই একটি পতনশীল রাষ্ট্র ছিল এবং তিনি এ বিষয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে একমত।

বর্তমান সাফল্যের দাবি ও জিনপিংয়ের অভিনন্দন

ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে, শি জিনপিং নিশ্চিতভাবেই গত ১৬ মাসে তাঁর প্রশাসনের অর্জনগুলোকে পতনশীল বলেননি। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী:

  • অর্থনৈতিক জোয়ার: রেকর্ড উচ্চতায় থাকা শেয়ার বাজার (Stock Markets), শক্তিশালী কর্মসংস্থান এবং বিপুল বৈদেশিক বিনিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে ‘হটেস্ট নেশন’ (Hottest Nation)।

  • শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন: ট্রাম্প দাবি করেন, শি জিনপিং নিজেই তাঁকে এত অল্প সময়ে এই অভাবনীয় সাফল্যের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ও অমীমাংসিত ইস্যু

সফরটি আড়ম্বরপূর্ণ হলেও বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে:

  • তাইওয়ান সংকট: চীন সরকার স্পষ্টভাবে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে যে, তাইওয়ান ইস্যুটি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে দুই দেশের সম্পর্ক বড় ধরনের সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।

  • অন্যান্য ইস্যু: ইরান সংকট, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা এবং ফেন্টানিল চোরাচালান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে বড় কোনো লিখিত চুক্তি ছাড়াই ট্রাম্প বেইজিং ত্যাগ করেছেন।


বৈশ্বিক পরাশক্তি ও পতনশীল রাষ্ট্রের তাত্ত্বিক বিতর্ক: ১৯০০ থেকে ২০২৬

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ‘পতনশীল রাষ্ট্র’ বিতর্ক ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভূ-রাজনৈতিক বিবর্তনের একটি কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায়।

  • বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্য (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে ব্রিটেন ছিল বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি। তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী কেউ কল্পনাও করেনি। ১৯০০ সালের সেই প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ছিল একটি উদীয়মান শক্তি। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আমেরিকা কেবল বিশ্বের এক নম্বর শক্তিতেই পরিণত হয়নি, এখন তার স্থায়িত্ব নিয়ে খোদ চীন প্রশ্ন তুলছে।

  • শীতল যুদ্ধ ও পরাশক্তির দম্ভ (১৯৭১-১৯৯০): সত্তরের দশকে যখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করে, তখন ‘পতনশীল’ শব্দটির ব্যবহার ছিল বিরল। ১৯০০ সালের পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র ‘একক পরাশক্তি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর নতুন মেরুকরণ: ২০২৪ সালের পর বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের আধিপত্য এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এই ‘পতনশীল রাষ্ট্র’ বা ‘Declining Nation’ তত্ত্বে নতুন হাওয়া দিয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ট্রাম্পের দাবি—যুক্তরাষ্ট্রের পতন থেমে গিয়ে পুনরায় উত্থান (Resurgence) শুরু হয়েছে—এটি ১৯০০ সালের পর থেকে আমেরিকার আত্মপরিচয়ের লড়াইয়ের একটি বড় অংশ।

  • ২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর লড়াই থেকে ২০২৬ সালের এই অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত স্নায়ুযুদ্ধে পৌঁছে আমরা দেখছি, ভাষা ও বয়ান (Narrative) কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের ব্যাখ্যাটি মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান শক্ত করার একটি কৌশল, যেখানে তিনি শি জিনপিংয়ের সমালোচনামূলক মন্তব্যকে বাইডেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

ইতিহাস সাক্ষী, পরাশক্তিদের মধ্যে আতিথেয়তা এবং কঠোর বার্তার বিনিময় যুগপৎ চলতে থাকে। ১৯০০ সালের সেই পিছিয়ে থাকা চীন থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক চীন আজ আমেরিকাকে ‘পতনশীল’ বলার সাহস রাখে। ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টটি প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল জমানায় কূটনীতি কেবল বদ্ধ ঘরে নয়, বরং স্মার্টফোনের পর্দায়ও সমানভাবে কার্যকর। তাইওয়ান বা ইরানের মতো অমীমাংসিত সমস্যাগুলো রয়ে গেলেও, ২০২৬ সালের এই মে মাসের বেইজিং সফরটি দুই দেশের সম্পর্কে একটি অস্থায়ী ‘স্থিতিশীলতা’ (Stability) আনতে পেরেছে।


সূত্র: ১. ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল (Truth Social) পোস্ট ও বেইজিং সফরের শেষ দিনের সংবাদ সম্মেলন (১৫ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: ১৯০০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত মার্কিন-চীন সম্পর্কের বিবর্তন ও ‘পতনশীল রাষ্ট্র’ তাত্ত্বিক বিতর্ক।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency